ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না: জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার (০৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জুলাই ’২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মারক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ  নুরুল ইসলাম মনি।


“সবার আগে বাংলাদেশ” মূলমন্ত্র এবং "গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে"— এই বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।আয়োজনের শুরু থেকেই প্রধান আকর্ষণ ও মূল আলোকপাতে ছিলেন জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জুলাই বিপ্লবের অদম্য চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি জাতীয় ঐক্যের জোর আহ্বান জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।


চিফ হুইপ বলেন, ৪ জুলাই আমাদের জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন এবং শহীদদের রক্তের ঋণের প্রতি সম্মান রেখে আমাদের সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে দেশের কল্যাণে একযোগে কাজ করতে হবে। এই বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় সম্মেলনটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধান, দিকনির্দেশনা ও বলিষ্ঠ সাংগঠনিক নেতৃত্ব সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।প্রধান অতিথির ভাষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। যে অদম্য চেতনা ও আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসকে স্বৈরাচারমুক্ত করে বদলে দিয়েছে, তা আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। শহীদদের রক্তের ঋণ ও আহতদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।


প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং আহত যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শহীদ মিরাজের পিতা আব্দুর রব মিয়া এবং শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেনসহ উপস্থিত বীর শহীদ পরিবার ও চিকিৎসাধীন আহত প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রীয় ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী সকল বীর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


এই ঐতিহাসিক স্মারক সভায় সরকারের মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যগণ, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ হাজারো জুলাই যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

ads
ads
ads

Our Facebook Page